মাগুরার মহম্মদপুরের সফল খামারী আমিন মোল্যা

68
404

মাগুরার মহম্মদপুরের সফল খামারী আমিন মোল্যা
দশ বছরে একটি থেকে ৩২ গরুর মালিক, প্রতিদিন উৎপন্ন হয় ৮০ লিটার দুধ

মাত্র একটি গাভী থেকে ৩২ টি গরুর মালিক হয়েছেন মাগুরার মহম্মদপুরের দাতিয়াদহ গ্রামের এক সময়ের হত দরিদ্র যুবক আমিন মোল্যা (৫০)। তার এ বিশাল খামারে এখন প্রতিদিন উৎপাদিত হয় ৮০ লিটার দুধ। যা থেকে উপার্জিত টাকায় এখন খুব ভালোভাবে চলছে আমিন মোল্যার সংসার। চলছে ৪ ছেলে মেয়ের লেখাপড়া। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশুর দাম কমে যাওয়ায় আমিন মোল্যার তার খামারে গরু নিয়ে দুশ্চিন্তা ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। আমিন মোল্যা গরুর খামার নিয়ে মাগুরা প্রতিনিধির তথ্য চিত্রে একটি ডেস্ক রিপোর্ট।

সফল খামারি আমিন মোল্যা জানান, ১০ বছর আগে অভাবগ্রস্ত সংসারে চাকা ঘোরাতে তিনি স্থানীয় একটি হাট থেকে ১৯ হাজার টাকায় কিনে ছিলেন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি বকনা বাছুর। নিরলস পরিশ্রম ও পরিচর্যায় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এ বকনা বাছুর বাচ্চা দিতে শুরু করে। একে একে বাড়তে থাকে খামারের পরিসর। ১০ বছরে তিনি মালিক হন ৩২টি গরুর। যার মধ্যে ১৪ টি গরু তিনি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে আছে ১৮টি গরু। এসব গরুর মধ্যে ৬ টি গাভী নিয়মিত দুধ দিচ্ছে। যার পরিমাণ প্রতিদিন ৮০ লিটার।
এ দুধ বিক্রির টাকায় এখন সচ্ছলভাবে চলছে তার সংসার। এছাড়া ইতিপুর্বে গরুর বিক্রিত টাকায় তিনি কাঁচা ঘরের স্থলে বাড়িতে পাকা ঘর দিয়েছেন। কিনেছেন ৬০ শতাংশ জমি। গরুগুলোকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই লালন পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন নামে ডাকেন। স্থানীয় মানুষ এখন তাকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে চেনেন।
আমিন মোল্যার খামার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে থাকা সবগুলি গরুই উন্নত জাতের। আমিন মোল্যাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিয়মিতভাবে এখানে শ্রম দেন। গরুগুলোকে তিনি সাধারণত নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত নেপিয়ার ঘাস খাওয়ান। এছাড়া ভুসি, খড় ও বিভিন্ন জাতের ফল শাক সবজি। এই গরুগুলাকে কখনই কারখানায় উৎপাদিত কোন খাবার খাওয়া নি বলে জানিয়েছেন আমিন মোল্য। যে কারণে এ গুলো দেশি জাতের গরুর মতোই বেড়ে উঠছে। আমিন মোল্যার এ সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে এখন এ ধরনের তৈরীতে উদ্যোগী হয়ে উঠছেন।
এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশুর দাম কমে যাওয়ায় আমিন মোল্যার তার খামারে থাকা কোরবানির উপযোগি ৫টি গরু নিয়ে দুশ্চিন্তা ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
খামার মালিক আমিন মোল্যা
এ বিষয়ে প্রাণি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরণের খামারিদের উন্নয়নে তারা প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেয়াসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছেন। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশু বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা তৈরী হয়েছে। এই সমস্যা নিরসনে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেমাগুরা সদরসহ ৪ উপজেলায় ৫টি অন লাইন হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে যে কোন খামারী তাদের কোরবানির পশু বিক্রির সুযোগ পাবে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ডাক্তার মোহাম্মদ হাদিউজ্জামান।

68 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here