হাকিকুল ইসলাম খোকন,যুক্তরাষ্ট্র সিনিয়র প্রতিনিধিঃআজ রবিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে একটি বিশেষ দিন। এই দিনে প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষরা একে অন্যকে তাদের ভালোবাসা জানায়।

ভ্যালেন্টাইন্স বা ভালোবাসা দিবস বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে খুব ঘটা করে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। তবে আমাদের অনেকেরই অজানা ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র প্রচলনের ইতিহাস। কবে কোথায় থেকে শুরু হলো ভালোবাসা দিবস? জানা গেছে, ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র ইতালিতে ভালোবাসা দিবসের প্রচলন চালু হয়ে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা রঙে, নানা আয়োজনে উদযাপন করা হলেও দিনটি শুরু হওয়ার ইতিহাস কিন্তু খুবই করুণ! এক মর্মান্তিক ভালোবাসার পরিণতি থেকেই এই দিনটির যাত্রা।

২৬৯ সালে ইতালির রোম শাসন করতেন রাজা ক্লডিয়াস-২। তার রাজ্যে সুশাসনের বড়ই অভাব ছিল। তার মধ্যে আবার আইনের অপশাসন, শিক্ষার অভাব, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং কর বৃদ্ধি যেন প্রজাদের জীবনকে নরক বানিয়ে দিয়েছিল।

রাজা তার সুশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ দরবারে তরুণ যুবকদের নিয়োগ দিলেন। আর যুবকদেরকে দায়িত্বশীল ও সাহসী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি রাজ্যে যুবকদের বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন। রাজা বিশ্বাস করতেন, বিয়ে মানুষকে দুর্বল ও কাপুরুষ করে। বিয়ে নিষিদ্ধ করায় পুরো রাজ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন যাজক গোপনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। তিনি সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘ভালোবাসার বন্ধু বা ‘Friend of Lovers’ নামে। কিন্তু তাকে রাজার নির্দেশ অমান্য করার কারণে রাষ্ট্রদ্রোহীতার দায়ে আটক করা হয়।

জেলে থাকাকালীন ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে পরিচয় হয় জেলরক্ষক আস্ট্রেরিয়াসের। আস্ট্রেরিয়াস জানতো ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা রয়েছে। তাই তিনি ভ্যালেন্টাইনকে অনুরোধ করেন তার অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে। ভ্যালেন্টাইন পরবর্তীতে মেয়েটির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন।

এতে মেয়েটির সঙ্গে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পর্কে জানতে পেরে রাজা তাকে রাজ দরবারে ডেকে পাঠান এবং রাজকার্যে সহযোগিতার জন্য বলেন।

কিন্তু রাজা বিয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করায় ভ্যালেন্টাইন রাজকার্জে সহযোগিতায় অস্বীকৃতি জানান। এতে রাজা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডের ঠিক আগ মুহূর্তে ভ্যালেন্টাইন কারারক্ষীদের কাছে একটি কলম ও কাগজ চেয়ে নেন।

তিনি তার ভালোবাসার মানুষের উদ্দেশে একটি গোপন চিঠি লেখেন। সেখানে বিদায় সম্ভাষণে তিনি লিখেছিলেন ‘From your Valentine’। এই একটি শব্দ হৃদয়কে বিষাদে আচ্ছন্ন করেছিল। ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকেই এই দিবসটিকে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে পালন করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ।

96 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here